মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৩

বাংলালিংক গ্র্যান্ডমাস্টার সিজন থ্রি প্রতিযোগিতার শীর্ষ ২০

কয়েক মাস আগে শুরু হওয়া বাংলালিংক গ্র্যান্ডমান্টার সিজন থ্রি প্রতিযোগিতায় ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। সারা দেশ থেকে ৮ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত শিক্ষার্থী প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উৎকর্ষের মাধ্যমে নতুন কিছু শুরু করার অভিপ্রায়ে একক এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। বিশেষ করে তাঁরা মোবাইল ইন্টারনেটভিত্তিক এমন সব অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে দেখাতে চাইছেন, যা সমাজে মানুষের জীবনকে বদলে দিতে পারে।
গ্র্যান্ডমাস্টার সিজন থ্রি প্রতিযোগিতার ফাইনাল বা চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৩ নভেম্বর, ২০১৩। এতে ৫০০টিররও বেশি টিম বা দলের মধ্য থেকে উঠে আসা সেরা ২০টি দল একে অন্যের সঙ্গে চূড়ান্ত বিজয়ের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবে। অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে কর্মশালায় নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে ফাইনাল বা চূড়ান্ত পর্বে প্রতিযোগিতা করার জন্য তৈরি করে তোলা হয়েছে। তারা বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে গঠিত বিচারকদের প্যানেলের সামনে ফাইনাল বা চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল আইডিয়া বা ধারণা উপস্থাপন করবে। প্রশিক্ষণের দিনে আমাদের অভ্যন্তরীণ বা নিজস্ব এক্সপার্ট বা বিশেষজ্ঞরা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ দেন। এরফলে অ্যাপ্লিকেশন তৈরির বিষয়ে তাদের জ্ঞান-ধারণার পরিধি বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে বলে আমরা মনে করি। ঢাকায় মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে গত ২৩ অক্টোবর বুধবার প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আগামী ২৩ নভেম্বরই বাংলালিংক গ্র্যান্ডমাস্টার প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত বিজয়ীদের নির্বাচিত ও ঘোষণা করা হবে। শুধুমাত্র জুরিবোর্ড বা বিচারক প্যানেলই চূড়ান্ত বিজয়ীদের নির্বাচিত করবেন না। এক্ষেত্রে বাংলালিংকের প্রান্তিক গ্রাহকদেরও রায় বা মতামতও গ্রহণ করা হবে। সে অনুযায়ী দুই পর্যায়ে বিজয়ী নির্বাচিত করা হবে। এর একটি নির্বাচিত হবে ফেসবুক ব্যবহারকারী বাংলালিংকের ফ্যান বা গ্রাহকদের ভোটে। তাঁদের জন্য বাংলালিংক ফেসবুক পেজ ‘বাংলালিংকমেলা’র মাধ্যমে নিজ নিজ ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এরফলে তাঁরা নিজেদের পছন্দের দলকে ভোট করতে পারবেন। অন্যদিকে জুরি বা বিচারক প্যানেলও তাঁদের চূড়ান্ত রায় দিতে গিয়ে জনগণের অভিমতকেও আমলে নেবেন।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সদস্যরাসহ, বাংলালিংকের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পদস্থ কর্মকর্তাগণ এবং জুরি বা বিচারক প্যানেলের সদস্যদের মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. কায়কোবাদ, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেসের অধ্যাপক ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী, ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের স্কুল অব বিজনেসের ডীন ড. সারওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, ফিন্যান্সিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন রশীদ ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মো. মুসা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের লেখাপড়ায় বা শিক্ষায় বৈচিএ্য রয়েছে। অর্থাৎ তাঁরা একেকজন একেক ধরনের বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করছেন। যেমনÑ কেউ বিজনেস বা ব্যবসায়, কেউ ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রকৌশল, কেউ টেক্সটাইল বা বস্ত্র ও মেডিসিন ইত্যাদি। এতে প্রমাণ হয় যে বাংলালিংক আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা বিভিন্ন বিষয়ের তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীদেরই সম্মিলন ঘটেছে।
বাংলালিংক গ্র্যান্ডমাস্টার প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন বা সেরা দলটি ২০০,০০০.০০ টাকা, প্রথম রানার আপ দল ১৫০,০০০.০০ টাকা ও দ্বিতীয় রানার আপ দল ১০০,০০০.০০ টাকা পাবে। তবে বিজয়ী সেরা দলটি চীনে অনুষ্ঠিতব্য ‘বাংলালিংক-হুয়াওয়েই ইন্টারন্যাশনাল ইয়ূথ ক্যাম্প’-এ যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ১২ দিনব্যাপী অনুষ্ঠেয় ওই ক্যাম্পে তাদের হুয়াওয়েই টেকনোলজিস লিমিটেড বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজন করবে এবং হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেবে। এছাড়া চীন সফরকালে এসব শিক্ষাথী হুয়াওয়েইর কারখানা পরিদর্শনেরও সুযোগ পাবেন। বাংলালিংকের এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের তৈরি অ্যাপ্লিকশনগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাংলালিংকের পিআর, কমিউনিকেশন ও মার্কেটিংয়ের প্রধান জনাব শরফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আমরা বিশ্বাস করি যে বাংলালিংক গ্র্যান্ডমাস্টার প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন ও অসাধারণ কিছু নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার প্রেরণা ছড়িয়ে দেবে। এ ধরনের চিন্তা-ভাবনার ফলে যে উদ্ভাবনী মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন পাওয়া যাবে তা এদেশের সমাজ ব্যবস্থা ও লক্ষ-কোটি মানুষের জীবন বদলে দেবে বলে আমরা আশা করি। বাংলালিংক গ্র্যান্ডমাস্টার প্রতিযোগিতা শুরু হয় ২০১১ সালে। সেই থেকে প্রতিযোগিতাটি বর্ণাঢ্য সুফল দিয়ে আসছে। তাই আমরা তৃতীয়বারের মতো এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি, যা পরিসরে আগের চেয়ে অনেক বড়। বাংলালিংক সব সময়ই নতুন কিছু করতে বদ্ধপরিকর। সেই আলোকে আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতমুখী পথচলায় ব্যবধান গড়ে দিতে হলে তরুণ ও যুব সমাজই হলো আমাদের প্রধান চাবিকাঠি।’’
বর্তমানে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর হলো বাংলালিংক; যাদের প্রায় দুই কোটি ৮০ লাখের মত গ্রাহক রয়েছে। প্রসঙ্গত, বাংলালিংক হচ্ছে নেদারল্যান্ড্সভিত্তিক ভিম্পেলকম লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন