বুধবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৩

ল্যাপটপ ক্রয়ে ঋণ দেবে এনজিওগুলো

সরকারের ‘শেখার মাধ্যমে আয়’ (লার্ণিং অ্যান্ড আর্ণিং) কর্মসূচীকে এগিয়ে নেয়ার জন্য পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) দেশের বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) মাধ্যমে প্রত্যেক ফ্রিল্যান্সিং আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণার্থীকে ল্যাপটপ ক্রয়ে ঋণ সহায়তা দেবে।
আজ বুধবার (২৭ নভেম্বর ২০১৩) পিকেএসএফ মিলনায়তনে লার্ণিং এন্ড আর্র্ণিং বিষয়ক এক কর্মশালায় সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোঃ আবদুল করিম এ কথা জানান।
এ বিষয়ে দ্রত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তথ্য ও যোযোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে দু’জন এবং পিকেএসএফ থেকে দু’জনকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে মনোনীত করা হয়।
কর্মশালয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম খান লার্ণিং অ্যান্ড আর্নিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে দেশে ফ্রিল্যান্সসার থেকে উদ্যোক্তা এবং উদ্যোক্তা থেকে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং বা আইটি ই-াস্ট্রিয়ালিস্ট তৈরির কর্মপরিকল্পনা নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের লার্ণিং অ্যান্ড আর্নিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে নয় মাসে ১৫ হাজার ফ্রিল্যান্সার তৈরি হয়েছে। যারা আউটসোর্সিয়ের কাজ করে বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় অনলাইন বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। এ দুটি অনলাইন মার্কেট প্লেসে দেশের ফ্রিল্যান্সারদের অবদানের কথা উল্লেখ করে আইসিটি সচিব বলেন, ওডেস্কে পাকিস্তান, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেনকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সারদের কাজের প্রবৃদ্ধি বিগত নয় মাসে বৃদ্ধি পেয়েছে ১০২ শতাংশ। ফ্রিল্যান্সিং আউট সোর্সিং খাত থেকে বাংলাদেশের আয় এ বছর ৪০ মিলিয়ন মার্কিং ডলার ছড়িয়ে যেতে পারে বলে তিনি জানান।
এন আই খান জানান আগামী বছর লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে ৪৫ হাজার ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা হবে। সরকারের লক্ষ্য প্রথমে ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা। পরবর্তীতে এসব ফ্রিল্যান্সার মধ্য থেকে উদ্যোক্তা এবং শেষে এসব উদ্যোক্তাদের মধ্যে থেকে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) বা আইটি ই-াস্ট্রিয়ালিস্ট তৈরি করা হবে।
এন আই খান বলেন, ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র (ইউআইএসসি) থেকে বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার তরুণ-তরুণী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের লিভারেজিং আইসিটি প্রকল্প থেকে ৩৪ হাজার আইটি পেশাজীবি তৈরি হচ্ছে। এছাড়াও স্কুল, কলেজ, পলিটেকনিক ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট এবং স্ব-উদ্যোগে প্রচুর সংখ্যক কম্পিউটার প্রশিক্ষিত মানুষদের টার্গেট করে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রোগ্রামকে উপজেলা পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে। এ ব্যাপারে বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) সহযোগিতা কামনা করেন। পিকেএসএফ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ‘শেখার মাধ্যমে আয়’ এর মতো উদ্ভাবনী কর্মসূচীর প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত মেধাবী তাদের আয়ের পথ দেখিয়ে দেয়া হলে তারা নিজেরাই আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজেদেরকে স্বাবলম্বী করে তুলবে।
তিনি বলেন, এ কর্মসূচী তৃণমুল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য এনজিওদের সম্পৃক্ততার প্রয়োজন রয়েছে। খুব শ্রীঘই আইসিটি মন্ত্রণালয়, পিকেএসএফ এর এনজিও কর্মকর্তাদের নিয়ে বড় আকারে একটি কর্মশালার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
কর্মশালায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মোবাইল অ্যাপস কর্মসূচীর পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, লিভারেজিং আইসিটি প্রকল্পের কম্পিউনিকেশন কনসালট্যান্ট অর্জিত কুমার সরকার ও টেকনিক্যাল স্পোশালিস্ট খালিদ নোমান হুসাইনী এবং পিকেএসএফ, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ফজলুল কাদেরসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন