Header Ads

শুভ জন্মদিন জাকারবার্গ

আজ মার্ক জাকারাবার্গের ৩০তম জন্মদিন। ১৯৮৪ সালের আজকের দিনে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন তিনি। পুরো নাম মার্ক এলিয়ট জাকারবার্গ। হ্যাকার, কলেজ থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী, ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী, টাইম ম্যাগাজিন-ব্যক্তিত্ব, পৃথিবীর সবচেয়ে কম বয়সী বিলিয়নীয়রসহ এই সুদর্শনের পরিচিতি অনেক। তবে সবকিছু ছাপিয়ে তাঁর মূল পরিচয় তিনি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী হিসেবেই।

হুডিওয়ালা টি-শার্ট, জিন্স ও স্নিকার্স পরেই তিনি জয় করেছেন গোটা বিশ্ব। বর্তমানে ফেসবুকের ২৯ শতাংশ মালিকানা তাঁর। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে জাকারবার্গ এবং তার কয়েকজন সহপাঠী মিলে ২০০৪ সালে ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করেন। মাত্র ২৬ বছর বয়সে টাইম ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে বর্ষসেরা ব্যক্তিত্ব নির্বাচিত হয়েছিলেন জাকারবার্গ।

১৯৯০ সালে বাবার মাধ্যমে প্রোগ্রামিংয়ে হাতেখড়ি জাকারবার্গের। হার্ভার্ডে তাঁর দ্বিতীয় বর্ষ চলাকালীন অক্টোবর ২৮, ২০০৩-এ তৈরি করেন ফেসবুকের পূর্বসূরি সাইট ফেসম্যাস। এতে তিনি হার্ভার্ডের নয়টি হাউসের শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহার করেন।

তিনি দুটি করে ছবি পাশাপাশি দেখান এবং হার্ভার্ডের সব শিক্ষার্থীদের ভোট দিতে বলেন। এ জন্য মার্ক জাকারবার্গ হার্ভার্ডের সংরক্ষিত তথ্যকেন্দ্র হ্যাক করেন। ২০০৪-এর জানুয়ারিতে মার্ক তাঁর নতুন সাইটের কোড লেখা শুরু করেন এবং ফেব্রুয়ারিতে হার্ভার্ডের ডরমিটরিতে ‘দ্য ফেসবুক’ উদ্বোধন করেন। মার্ক জাকারবার্গের সঙ্গে ছিলেন ডাস্টিন মস্কোভিজ, ক্রস হুগেস ও এডোয়ার্ডো স্যাভেরিন এবং অ্যান্ড্রু ম্যাককালাম। বছর না ঘুরতেই ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। ২০০৫ সালে ‘দ্য ফেসবুক ডটকম’ নাম পালটে কোম্পানির নাম রাখা হয় শুধু ‘ফেসবুক’। ২০১০ সাল সাল নাগাদ ব্যবহারকারী ৫০ কোটি ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানে ১২০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে ফেসবুকে।
জাকারবার্গ তাঁর বান্ধবী প্রিসিলা চ্যানকে বিয়ে করেছেন। প্রিয় খাবার নিজের শিকার করা পশুর মাংস। বিস্ট নামে তাঁর একটি পোষা কুকুর তাঁর অন্যতম প্রিয় সঙ্গী।

ফেসবুক ও জাকারবার্গ
গত ১০ বছরে একটি কোম্পানি হিসেবেও বড় হয়ে উঠছে ফেসবুক। ২০১২ সালে পাবলিক লিমিটেড প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ফেসবুক। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইমার্কেটারের তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে আয়ের দিক থেকে বর্তমানে গুগলের পরের অবস্থানেই রয়েছে ফেসবুক। মোবাইল বিজ্ঞাপন থেকেও ফেসবুকের আয় বাড়ছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফেসবুক পরিবর্তন আনছে নিয়মিত। কিনছে বিভিন্ন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সেবা ফেসবুকের সঙ্গে যুক্তও করছে। ফেসবুকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ৪৩টি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান কিনেছে ফেসবুক যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে গোয়ালা, ইনস্টাগ্রাম, লাইটবক্স,লিটল আই ল্যাবস, ব্রা, অকুলাস ভিআর প্রভৃতি।

জাকারবার্গ এখন পরিণত
বয়স ৩০। বিবাহিত। জাকারবার্গ এখন অনেকটাই পরিণত। ভবিষ্যত্ নিয়ে কী ভাবছেন তিনি? নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেসবুক তৈরি করেই বসে নেই মার্ক জাকারবার্গ। এখন তিনি প্রযুক্তি শিল্পে ব্যাপক পরিবর্তন আনার বিষয়ে ভাবছেন। এ বছরের ২৮ থেকে ২৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘ওপেন কম্পিউট প্রোজেক্ট’ নামের এক সম্মেলনে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ তাঁর ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা নিয়ে বলেন।

জাকারবার্গ তাঁর পরিকল্পনা সম্পর্কে জানান, যেখানে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের সাইট তৈরি করেছিলেন, গত এক দশকে সেখানে নিয়ে গেছেন ফেসবুককে। তাঁর বাকি লক্ষ্যও অর্জন হওয়ার পথে। তবে এখনই থেমে যেতে চান না তিনি।

ফেসবুকের পর এখন হাই-টেক ব্যবসাগুলোতে বিশাল পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। এখনকার যুগে শুধু ডেটা সেন্টারের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসাগুলোকে পরিবর্তন আনতে কাজ করবেন তিনি। আর এ লক্ষ্যে অনেকদূর এগিয়েও গেছেন।

জাকারবার্গ মনে করেন, প্রযুক্তি শিল্পে পরিবর্তন আনতে তিনি কোনো প্রতিষ্ঠানের একচ্ছত্র আধিপত্যকে দূর করতে পেরেছেন। এ কাজে সাহায্য করেছে ওপেন সোর্স। আমাজন, গুগল ও ইয়াহুর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যে প্রযুক্তি সুবিধা নিয়ে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ব্যবসা করে যাচ্ছিল, সে বাধা দূর করে অন্যদেরও সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। ওপেন কম্পিউটের মাধ্যমে ক্রাউডসোর্সিং পদ্ধতিতে কম্পিউটিংয়ের সমস্যা সমাধান করেছেন জাকারবার্গ।

জাকারবার্গ বলেন, ‘যখন কেউ প্রথম কোনো জিনিস তৈরি করে, তার পক্ষে সেটা গোপন করার সুবিধা নেওয়া সহজ হয়। তবে আমাদের কাছে ওপেন সোর্স বা মুক্ত থাকা পদ্ধতিটি সুবিধাজনক মনে হয়েছে এবং আমরা এক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে গেছি।’
জাকারবার্গ বলেন, ফেসবুক পরিবেশ-বান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে, তাতে পরিবেশের সুরক্ষার পাশাপাশি শক্তির অপচয় রোধ হচ্ছে।

ফেসবুক ও ওপেন কম্পিউটিং প্রকল্পের পাশাপাশি জাকারবার্গ কাজ করছেন ইন্টারনেট অরগানাইজেশন নামের আরেকটি প্রকল্প নিয়ে। বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট সাশ্রয়ী করতে জাকারাবার্গের এই উদ্যোগের সঙ্গে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান স্যামসাং, মার্কিন সেমিকন্ডাক্টার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কোয়ালকম, এরিকসন, মিডিয়াটেক, নকিয়া ও অপেরা। এ প্রকল্পের অধীনে প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাশ্রয়ী দামে উন্নত প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট সুবিধার স্মার্টফোন তৈরি করবে।

জাকারবার্গ জানান, বর্তমানে ফেসবুকের আকার আর মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠিতে দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে বলেই মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, ১০ বছর আগে যখন হার্ভার্ডের ছোট ডরমেটরিতে ফেসবুক যাত্রা শুরু করেছিল, তখনো এত বড় স্বপ্ন দেখেননি তিনি। তিনি ভেবেছিলেন, ‘আমার যেটুকু তৈরি করার দরকার করে দিয়েছি, বাকিটা নতুন কেউ এসে এগিয়ে নেবে। কিন্তু সেই ভাবনায় আটকে থাকেননি তিনি। যা তিনি কল্পনাও করেননি ফেসবুক আজ সেখানে দাঁড়িয়ে আছে।’
শুভ জন্মদিন মার্ক জাকারবার্গ।

কোন মন্তব্য নেই

konradlew থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.