বুধবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৩

বিয়েতে প্রযুক্তির চমক

দিন যত যাচ্ছে, স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বড় একটি অংশে ক্রমে যোগ হচ্ছে প্রযুক্তি। সে অনুযায়ী বর্তমানে মানুষের আধুনিক জীবন অনেকটাই প্রযুক্তিনির্ভর। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার মতো জাঁকালো আচার-অনুষ্ঠানেও এখন ভালোভাবেই জড়িয়ে গেছে প্রযুক্তি।
বলতে গেলে, একুশ শতকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে উচ্চপ্রযুক্তি। প্রযুক্তির কল্যাণে বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রথাগত রীতি ও আয়োজন বদলে যাচ্ছে।
আজ বুধবার বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিবাহ-প্রযুক্তির প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলছে। বিপুল চাহিদার কারণে কেবল যুক্তরাজ্যে বছরে এই শিল্পের দাম ১০ বিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি।
বিশেষ করে কয়েক বছর ধরে বিবাহ-প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে। বর-কনের পোশাক, বিয়ের আংটি, অনুষ্ঠান আয়োজন ও সমন্বয়, অতিথি আপ্যায়ন, নিমন্ত্রণ, অভিবাদন—সর্বত্রই ব্যবহূত হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের উচ্চপ্রযুক্তি।
বিভিন্ন উন্নত দেশে বিয়েতে বর-কনে থ্রিডি প্রিন্টের পোশাক ও টুপি ব্যবহার করছেন। পোশাকে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে যে, কোনো প্রিয়জনের দেওয়া শুভকামনা বর-কনের পোশাকে ফুটে উঠবে। এ ছাড়া বর-করে পরস্পর আবেগ বিনিময় করলে, তাঁদের পোশাকে ব্যক্তিগত বার্তা ভেসে উঠবে।
বিয়ের ও বাগদানের আংটি, কেক প্রভৃতিতে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এনগেজমেন্ট বা বিয়ের আংটি প্রতিবছর স্মরণীয় এই দিনটির কথা আগেই মনে করিয়ে দেবে।
নিমন্ত্রণ কার্ডেও থাকছে প্রযুক্তি। তা ছাড়া আজকাল বিয়ের নিমন্ত্রণে মুঠোফোন, ফেসবুক ও সফটওয়্যার প্রযুক্তি-নির্ভরতা বাড়ছে। বিয়ের অনুষ্ঠানের তারিখ ও সময় সম্পর্কে অতিথিদের পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেওয়ার কাজও করছে প্রযুক্তি।
অনেকে আবার আজকাল বিয়ের অনুষ্ঠানে রোবট রাখছেন। ২০১০ সালে জাপানের এক দম্পতির বিয়েতে এমনটা দেখা গেছে।
মানুষের এই আগ্রহের কথা বিবেচনা করে উন্নত দেশগুলো বিবাহ-প্রযুক্তি শিল্পের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। চমকপ্রদ সব বিবাহ-প্রযুক্তির উদ্ভাবনে অনেক প্রতিষ্ঠান বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন