মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৪

জেনে নিন প্রাকৃতিক উপায় মশা তাড়াবার পদ্দতি।

মশার কামড় শুধু যে বিরক্তিকর তা কিন্তু নয় বরং মশার কামড় থেকে হতে পারে ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গুর মত মারাত্মক রোগ। মশা তাড়ানোর জন্য আমরা সব সময়েই দোকান থেকে কয়েল বা স্প্রে কিনে নিয়ে আসি। কিন্তু এগুলোর আছে নানান রকম স্বাস্থ্যঝুঁকি। আবার খুব ভালো কাজ যে হয়,তাও কিন্তু না। এ ধরনের উষ্ণমন্ডলীয় চরম শত্রুর হাত থেকে প্রাকৃতিক উপায় কিভাবে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়, তা ভেবে দেখতে পারেন।
ফ্যান চালু করুন
মশারা খুবই হালকা। মশাদের উড়বার গতিবেগের চাইতে ফ্যানের ঘুরবার গতি অনেক বেশি হওয়াতে সহজেই মশাদের ব্লেডের কাছে টেনে নেয়। আপনার বসার স্থান কিংবা ডেক বা যেসব স্থান থেকে মশারা খুব সহজে আপনার গৃহে প্রবেশ করতে পারে, এমনসব স্থানে মশাদের আগমন সময়ে আপনার টেবিল ফ্যান বা পেডাল ফ্যানটি চালু রাখুন। মশাদের হাত থেকেও যেমন নিস্কৃতি পাবেন তেমনি গরমেও পাবেন আরাম।
লেমন গ্রাস লাগান
থাই লেমন গ্রাসে আছে ‘সাইট্রোনেলা অয়েল’যা থেকে বের হয় একধরনের শক্তিশালী সুগন্ধ। এই সুগন্ধ কিন্তু মশাদের যম। মশারা এর কাছেও ঘেঁষে না। ফলে আপনার আশেপাশে লেমন গ্রাসের ঝাঁড় থাকলে মশারা আপনাকে খুঁজে পাবে না। আর লেমন গ্রাস দেখতেও কিন্তু মন্দ নয়। এমনসব স্থানে এসব গাছের টব রাখুন যেখানে সকাল বিকাল কিংবা রাতে পরিবারের অন্যদের নিয়ে কিংবা বন্ধু বান্ধব নিয়ে আড্ডা বা সময় কাটান। এভাবে থাকুন মশা মুক্ত।
মশাদের পছন্দের রঙের পোষাক এড়িয়ে চলুন
কি অবাক হচ্ছেন! হ্যাঁ কিছু কিছু প্রজাতির মশারা কয়েকটি গাঢ় রঙের প্রতি আকৃষ্ট হয় যেমন কালো, নীল আর লাল। আর তারা গরমের প্রতিও সংবেদনশীল। তাই ঠান্ডা রাখুন ঘর আর পোষাক পড়ুন হালকা রঙের। সেই সাথে সম্ভব হলে মশাদের আক্রমন সময়ে সুগন্ধি পারফিউম কিংবা লোশন না ব্যবহার করাই ভাল।
ক্যাটনিপ অয়েল
ক্যাটনিপ অয়েলের nepetalactone  নামক পদার্থ মশা তাড়াতে DEET (Diethyle-Meta-toluamide)  থেকে প্রায় ১০ গুন বেশি শক্তিশালী। ক্যাটনিপ অয়েল মাখালে মশারা ধারেকাছেও ঘেঁষবে না।
রসুনের স্প্রে
হ্যাঁ! রসুনের স্প্রে মশা তাড়াতে খুবই কার্যকরী প্রাকৃতিক উপায়। পাঁচ ভাগ পানিতে এক ভাগ রসুনের রস মেশান। মিশ্রনটি একটি বোতলে ভরে শরীরের যেসব স্থানে মশারা কামড়াতে পারে সেসব স্থানে স্প্রে করুন। যেকোন ধরনের রক্ত চোষারা আপনার ধারেকাছেও আসবে না।
খেয়াল রাখুন যেন কোথাও পানি জমে না থাকে
ঘরের আনাচে-কানাচে কিংবা উঠোনে পানি জমে থাকলে সেখানে মশারা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই যেখানেই পানি জমুক না কেন, তা সরিয়ে ফেলুন। মশার বংশবিস্তার রোধ করুন।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিসিএস’র ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব

তথ্যপ্রযুক্তিকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের প্রধান কারিগর হিসেবে গণ্য করে  আগামী সাত বছরের জন্য  এ খাত-সংশ্লিষ্টদের ট্যাক্স হলিডে সুবিধা এবং আগামী বাজেটে ৭০০ কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়েছে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। একইসাথে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সকল যন্ত্রাংশে করের হার যৌক্তিকভাবে সুবিন্যস্ত করার দাবি জানানো হয়।  মঙ্গলবার বিসিএস মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাজেট প্রস্তাবনা’ শীর্ষক  সংবাদ সম্মেলনে  বিসিএসের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটি এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।  এ সময় বিসিএসের ৮ শাখা কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আউটসোর্সিং, ই-সেবার বিকাশ ত্বরান্বিত করতে ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট, খুচরা বিক্রয় পর্যায়ে ই-বাণিজ্যের সকল লেনদেনের উপর থেকে মূল্য সংযোজন কর প্রত্যাহার সহ সাত দফা দাবি জানায় বিসিএস।

সম্মেলনে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের আশ্বাস অনুযায়ী ‘ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ’ মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, ডিজিটাল ক্যামেরা, ২৭ ইঞ্চি পর্যন্ত মনিটর, মাল্টি ফাংশনাল প্রিন্টার, ইন্টারনেট সংযোগের জন্য নেটওয়ার্কিং ডিভাইসে ট্যাক্স কমাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি বিপণিকেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভ্যাট মওকুফ সুবিধা আগামী ২০১৮ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রাখতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। পাশাপাশি সম্ভাবনাময় ‘তথ্যপ্রযুক্তি সেবা’খাতের উন্নয়নে বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তিতে বিদ্যমান ১০ শতাংশ এআইটি এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখেন বিসিএস সভাপতি এ.এইচ.এম মাহফুজুল আরিফ।

তিনি বলেন, কৃষি ও শিল্প বিপ্লবের পর বিশ্ব এখন তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লবের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।  কায়িক শ্রমের স্থানে যুক্ত হয়েছে মেধা। খনিজ সম্পদের চেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে মানব সম্পদ। কম্পিউটার বিপ্লব আর ই-যোগাযোগের কল্যাণে পৃথিবীর অনেক দেশই দারিদ্রতাকে জয় করেছে।  তথ্যপ্রযুক্তিতে সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম আছে। এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা আমাদের তরুণ প্রজন্মের। অধিক জনসংখ্যার কারণে চাকরির বাজার একেবারেই ছোট হলেও কম্পিউটার, ই-যোগাযোগ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করে তারা  আয় করছে।  একদিকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজ যেমন করে দিচ্ছে, তেমনি নিত্যনতুন সফটওয়্যার, অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে দেশের প্রয়োজন মিটিয়ে রপ্তানিও করছে।

দেশের রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় খাত পোশাক শিল্পের সঙ্গে তুলনা দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অগ্রগতি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বেশি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গুগলের সঙ্গে সফটউইন্ডটেক’র পথচলা

গুগলের পার্টনার হয়েছে দেশের বৃহ‍ৎ ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যান্ড স্ট্রাটেজি এজেন্সিস সফটউইন্ডটেক।

দু’টি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি অনুযায়ী এখন থেকে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যান্ড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং, ওয়েব সাইট ডিজাইন অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন, ডিসপ্লে অ্যাডভারটাইজিং প্রভৃতি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান সফটউইন্ডটেক সরাসরি গুগল থেকে ইন্ডাস্ট্রি ইনসাইটস, কেস স্টাডিজ, ফ্রেশ মার্কেটিং রিসোর্সেস হালনাগাদ করবে।

দু’টি প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের যৌথ সেবা ব্যবসা সম্প্রসারণে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সাহায্য করবে।

সফটউইন্ডটেক’র চেয়ারম্যান শফিউল ভূইয়া এ সম্পর্কে বলেন, আমাদের প্রতি বিশ্বাস রাখার জন্য গুগলকে ধন্যবাদ। আমরা একসঙ্গে গ্রাহকদের প্রত্যাশা পূরণের জন্য চেষ্টা করে যাবো।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মইনুর হুসাইন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজিটাল যোগাযোগ শিল্পে এটি একটি মাইলফলক। এর মাধ্যমে দেশের ভেতরে আরও বেশি ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করলো অ্যালকাটেল

বাংলাদেশে দীর্ঘবিরতির পর আবারও এসেছে ফ্রান্সের স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যালকাটেল।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর লেকশোর হোটেলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে বিশ্বখ্যাত মোবাইল ব্র্যান্ড অ্যালকাটেল। 

অনুষ্ঠানে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খলিলুর রহমান, অ্যালকাটেলের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (এশিয়া প্যাসিফিক) এলবার্ট ওং, এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনের মার্কেটিং ডিরেক্টর মাইকেল চেন, অ্যালকাটেল বাংলাদেশ-ভারতের প্রধান প্রবীণ ভ্যালেচা, ইরাসেল লিমিটেডের কান্ট্রি ম্যানেজার শিজু চেরুভালাথ উপস্থিত ছিলেন।   

দেশের বাজারে এরই মধ্যে অ্যালকাটেল ওয়ানটাচ ১৩টি মডেলের ফোন বাজারে এনেছে যার কয়েকটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এই হ্যান্ডসেটগুলোর দাম এক হাজার ২৪৯ টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার ৪৯৯ টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি স্মার্টফোন শিগগিরই বিশ্ববাজারে অবমুক্ত হবার দিন থেকেই বাংলাদেশেও পাওয়া যাবে।    

অ্যালকাটেল স্মার্টফোন থ্রিজি ব্যাবহারের সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে সক্ষম। এছাড়া ফিচার এবং বেসিক ফোন বাজারে এনেছে অ্যালকাটেল। যেগুলো গ্রাহকের সব ধরনের চাহিদা পূরণে সক্ষম। অ্যালকাটেল ওয়ানটাচ স্মার্টফোন অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের একটি বড় বাজার দখল করে আছে। 

বাংলাদেশে অ্যালকাটেলের বিপণনকারী ‘ইরাসেল লিমিটেড’ ইতোমধ্যে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে ‘ওয়ানটাচ কেয়ার’ নামে সার্ভিস সেন্টার এবং যমুনা ফিউচার পার্কের ৫ম তলায় ‘অ্যালকাটেল ওয়ানটাচ’ স্টোর চালু করেছে।

বিপণনব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিরঙ্কুশ রাখতে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে অ্যালকাটেলের পক্ষ থেকে। 

গেল বছর বহু প্রত্যাশিত তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) মোবাইল ফোন সার্ভিস চালু হবার পরপরই ‘অ্যালকাটেল ওয়ানটাচ’ তাদের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ফোনগুলো এদেশে বাজারজাত শুরু করে। অ্যালকাটেল ওয়ানটাচ এদেশের মানুষের হাতে সঠিক দামে সবার হাতে থ্রিজি সেবার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায়।

সনি এরিকসন, স্যামসাং কিংবা এইচটিসির পর বিশ্বে ‘অ্যালকাটেল’ স্মার্টফোনের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা এবং বাংলাদেশেও স্মার্টফোনের বিশাল চাহিদা রয়েছে যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

এলবার্ট ওং বলেন,  গ্রাহকদের কাছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এ ব্র্যান্ডটি পৌঁছে দেওয়ার এই মুহূর্তটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা অ্যালকাটেলের কাছে যেমনটি আশা করে সেই সেরা ইউজার ইন্টারফেস, ডিজাইন, শক্তিশালী ডিভাইস এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে সেবা আমরা তাদের দেব। এদেশে অ্যালকাটেলের শুরু থেকেই আমাদের গ্রাহকের চাহিদা, সামর্থ্য এবং ব্যবহৃত ডিভাইসের ভিত্তিতে আমরা বিভিন্ন ধরনের ফোন বাজারজাত করে আসছি। এখানে আমরা স্মার্টফোন, ফিচার ফোন এবং বেসিক ফোনসহ এসব ফোনের প্রিমিয়াম সব এক্সেসরিজ এনেছি। যা আমাদের গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে সম্পূর্ণভাবে সক্ষম হবে বলে আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি।

‘আজ এই শুভলগ্নে আমরা সকলকে আমাদের পাশে থাকার জন্যে আহবান জানাই। শুভ হোক অ্যালকাটেল এর এই দীর্ঘ পথচলা’ বলেন এলবার্ট ওং।